ক্রেডিট স্কোর কী?
ক্রেডিট স্কোর হল একটি তিন-অঙ্কের সংখ্যা (সাধারণত ৩০০ থেকে ৯০০-এর মধ্যে), যা দেখে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে আপনি কতটা নির্ভরযোগ্য ঋণগ্রহীতা। স্কোর যত বেশি, ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড পাবার সম্ভাবনা তত বেশি।
স্কোর কেমন হলে কী হয়?
| স্কোর রেঞ্জ | মানে কী |
|---|---|
| ৭৫০ – ৯০০ | চমৎকার – ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে না, সুদের হার কম পাবেন। |
| ৭০০ – ৭৪৯ | ভালো – ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। |
| ৬৫০ – ৬৯৯ | সাধারণ – কিছুটা ঝুঁকি, ঋণ পেতে পারেন কিন্তু সুদের হার বেশি হতে পারে। |
| ৬০০ – ৬৪৯ | কম – ব্যাংক ঝুঁকি নিতে চায় না, ঋণ পাওয়া কঠিন। |
| ৬০০-এর নিচে | খারাপ – ঋণ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। |
ক্রেডিট স্কোর কীভাবে নির্ধারিত হয়?
চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্কোর তৈরি হয়:
পেমেন্ট ইতিহাস – আপনি কি সময়মতো EMI এবং ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেন? (এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন রেশিও (CUR) – আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কতটা ব্যবহার করছেন? (আদর্শভাবে ৩০%-এর কম হওয়া ভালো)
ক্রেডিট মিশ্রণ ও সময়কাল – আপনার কি ধরনের ঋণ আছে (হোম লোন, কার লোন, ক্রেডিট কার্ড)? কতদিন ধরে ঋণ নিচ্ছেন?
হার্ড ইনকোয়ারি – আপনি কতবার নতুন ঋণের জন্য আবেদন করেছেন? (বারবার আবেদন করলে স্কোর কমে)
🏛️ ভারতের ক্রেডিট ব্যুরোর ইতিহাস
ভারতে ক্রেডিট ব্যুরো শুরুর মূল কারণ ছিল – ব্যাংকগুলোর কাছে কোনো তথ্য ছিল না যে কে ভালো ঋণগ্রহীতা আর কে খারাপ। তাই তারা ঝুঁকি নিতে চাইত না।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপঞ্জি:
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৯৯-২০০০ | আরবিআই (RBI) একটি কমিটি গঠন করে এবং সিবিল (CIBIL)-এর সূচনা হয়। |
| ২০০৪ | সিবিল (CIBIL) ভারতের প্রথম কনজিউমার ক্রেডিট ব্যুরো চালু করে। |
| ২০০৫ | সরকার ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানিজ (CIC) রেগুলেশন অ্যাক্ট পাস করে, যা ক্রেডিট ব্যুরোর জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করে। |
| ২০০৭ | সিবিল স্কোর চালু হয় (শুধু ব্যাংকের জন্য)। |
| ২০১১ | সাধারণ মানুষ প্রথমবার নিজের সিবিল স্কোর সরাসরি দেখতে পায়। |
| ২০১০-এর দশক | আরবিআই আরও তিনটি ক্রেডিট ব্যুরো লাইসেন্স দেয়। |
বর্তমানে ভারতে মোট ৪টি ক্রেডিট ব্যুরো আছে:
ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল (TransUnion CIBIL) – সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয়
এক্সপেরিয়ান (Experian)
ইকুইফ্যাক্স (Equifax)
CRIF হাই মার্ক (CRIF High Mark)
আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
৭৫০ বা তার বেশি স্কোর থাকলে ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সহজে ও কম সুদে পাওয়া যায়।
সময়মতো EMI ও বিল পরিশোধ করুন, ক্রেডিট কার্ডের লিমিট কম ব্যবহার করুন – তাহলে স্কোর ভালো থাকবে।
প্রতিটি ক্রেডিট ব্যুরো থেকে বছরে একবার বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট নেওয়ার অধিকার আপনার আছে। এটি পরীক্ষা করে দেখুন তথ্য সঠিক আছে কিনা।
যাদের ক্রেডিট স্কোর তৈরি হয়নি তারা নিজের ক্রেডিট স্কোর তৈরী করুন এই ভাবে ........ Click here